Header Ads Widget

বিশপ হলেন রিচার্ডসাহেব || প্রবীর মজুমদার

 


রিচার্ডসাহেব উদ্বিগ্ন মুখে সবেগে গির্জার দিকে চলেছেন। কৌতুহল দমন করতে পারলাম না। কৌতুকপ্রিয় আমুদে লোক বলে এলাকায় রিচার্ডসাহেবের যথেষ্ট খ্যাতি। তাঁর মুখ আজ ভার কেন? সেই কথা জিজ্ঞেস করতেই রিচার্ডসাহেব বললেন, 'খুব সমস্যায় পড়িয়াছি মহাশয়। মনে হইতেছে আমি বিশপ হইতে চলিতেছি।'
রিচার্ডসাহব পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত। তাঁর বোনের স্বামী ফ্রান্সিসের অকাল মৃত্যুর পর দমনের পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে তিনি পাকাপাকিভাবে বাংলায় বসবাস করছেন। তাও প্রায় বছর পাঁচেক হয়েছে। গৃ্হশিক্ষক রেখে প্রভূত মনযোগে বাংলা শিখেছেন। ভালভাবে অভ্যাসের জন্য তিনি তাঁর বোন আর ভাগনের সংগে যেমন কথা বলেন বাংলায়, তেমনি ভগবানের সংগেও কথা বলেন সেই বাংলাতেই। ধর্মেকর্মে রিচার্ডসাহেবের মতি আছে। প্রতিরবিবার তিনি গীর্জায় যান। এই ব্যাপারে গরজের খামতি নেই তাঁর। বিশপ হওয়া নিষ্ঠাবান খ্রিস্টানের পক্ষে পরম গর্বের বিষয় বলেই জানি। অনেক পাদ্রিই বিশপ হবার বাসনায় জীবন কাটিয়ে দেন, তবু সেই সৌভাগ্য আসে না। বিশপ হওয়া চাট্টিখানি নয়। অনেক স্তর পেরিয়ে তবেই ঐ পদে স্তরিত হওয়া যায়। অথচ বিশপ অবস্থা রিচার্ডসাহেবকে ত্বরিত করে তুলেছে— ছুটিয়ে মারছে। বিশপেরাই ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টানদের নিয়ে টানাটানি করেন, টেনে নিয়ে যান ঈশ্বরের কাছে, কিন্তু তাদেরও যে এতো টানটান পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তা জানা ছিল না।
বিশপ হওয়ায় রিচার্ডসাহেব আনন্দিত না হলেও, তাকে অভিনন্দিত করা উচিত বলে মনে হল আমার— অন্ততঃ ভদ্রতা রক্ষার খাতিরেই তাঁর আসন্ন খ্যাতিকে গুরুত্ব দেওয়া আমার কর্তব্য। আমার শুভেচ্ছা বার্তায় হয়ত তিনি এই মুহূর্তে হ্যাপি হতে পারবেন না, বিশপীয় হ্যাপার সম্ভাবনায় হয়ত তিনি এখন বিমর্ষ। তবু আমার কর্তব্য আমাকে তো পালন করতেই হবে। তাই হাস্য মুখে তাঁকে বললাম, 'আপনাকে অজস্র অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানাই।'
যা ভেবেছিলাম তাই হল। রিচার্ড সাহেব ক্ষুন্ন হলেন। ক্ষিন কণ্ঠে বললেন, 'আমাকে অভিনন্দন জানাইতেছেন কী কারণে? আমি তো প্রবল সমস্যায় পড়িয়াছি।'
'কী আর এমন সমস্যা?' তাঁকে উৎসাহ দেবার অভিপ্রায়ে বললাম, 'নতুন দায়িত্ব পেলে প্রথম দিকে খানিক দুর্ভাবনা হয় বটে, তবে বনিবনা করে নিতে হয়। আমার বিশ্বাস আপনি সফল হবেনই। আপনি এগিয়ে চলুন।'
'তাই তো চলিতেছি। আজ একটি হেস্তনেস্ত করিয়া ছাড়িব।'
'সেকি?' আমি বিস্মিত না হয়ে পারি না, 'আপনি কি চান না গির্জার দায়িত্বভার আপনার উপর ন্যাস্ত হোক?
'আহা, তুমি যাহা ভাবিতেছ তাহা নহে। আমি অন্য বিশপ হইবার কথা বলিতেছি।'
'কী রকম?' আমার কৌতুহল বাড়ে, 'আমি তো এক রকম বিশপের কথাই জানি। সেটা হল গীর্জার বিশপ। বিশপের আবার অন্য কোনও মানেও আছে না কি?'
'তুমি তোমার মাতৃভাষাও ভাল করিয়া জান না, আবার ইংরাজিও ভাল করিয়া জান না। ভাষার জ্ঞান তোমার ভাসাভাসা।' রিচার্ড সাহেব বিরক্ত হয়ে বলেন, 'বিশপের অর্থ হইল— শপ বিগত হওন। আমার শপখানি হইতে আমি বেদখল হইতে চলিয়াছি।'
আমি চমৎকৃত হই। প্রাণান্তকর বি-shop ঘটিত PUN হাস্যদ্রেগ করলেও কোনও মতে সামলে নিতে বাধ্য হই। গির্জার সামনে রাস্তার ওপাশে রিচার্ড সাহেবের একটা ওষুধের দোকান আছে। সেই দোকান থেকে তাঁর বিতাড়নের সম্ভাবনা মোটেই হাসির বিষয় নয়। তাই হাসিটাকে কাশিতে পরিনত করে বললাম, 'ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন তো! আপনাকে আপনার দোকান থেকে উৎখাত করবে— কার এমন হিম্মত?'
'দুঃখের কথা আর কী বলিব মহাশয়! আমার ভাগিনেয় আমাকে আমার শপ হইতে ভাগাইতে বদ্ধপরিকর হইয়াছে।'
'ভাগিনা তো ভাগ চাইতেই পারে।' আমি রিচার্ডসাহেবকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার চেষ্টা বিফলে যায়। তিনি শান্ত হন না। ক্রদ্ধ স্বরে বলেন, 'ওই ব্যাটা জোশেপ আমার ভাগিনেয়র সহিত মিলিত হইয়া আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছে। ও যদি পাদ্রী না হইত তাহা হইলে আমি উহাকে উচিত শিক্ষা দিতাম।'
রিচার্ডসাহেবকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে যা জানলাম তা কৌতুহলজনক হলেও কৌতুকপ্রদ নয় মোটেই। ইদানীং রিচার্ডসাহেবের ভাগনে দমিনিকের ব্যবসায় নামার শখ হয়েছে। পাদ্রী জোশেপসাহেবের সংগে পরামর্শ করে সে ব্যবসার নীলনকশাও ছকে ফেলেছে। এখন ওর একটা দোকান ঘর চাই। রিচার্ডসাহেবের দোকানঘরটা যথেষ্ট বড়। তার থেকেই খানিকটা চেয়েছে দোমিনিক। কিন্তু রিচার্ডসাহেব রাজি হননি। বলেছেন, 'সদ্য সদ্য স্নাতক হইয়াছ। ব্যবসার তুমি কী বোঝ? ব্যবসা কোনও তামাশা নহে। তোমাকে ব্যবসা করিতে হইবে না। সরকারী চাকুরীর চেষ্টা দেখো।'
কিন্তু দমিনিককে দমন করা যায়নি। মন সে স্থির করেই ফেলেছে। এখন তাকে ঠেকায় কে? ব্যবসার স্বার্থে মামাকে ঠকাতেও পিছপাও নয় সে। সে বলেছে, 'তোমার দোকানের সামান্য একটা ভাগই তো চাইছি। তাও ধার হিসেবে।'
কিন্তু রিচার্ডসাহেব দোমিনিকের আশ্বাসের ধার ধারেননি। ও ধারই মাড়াননি তিনি। যা ধুরন্ধর ছেলে, ছুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরবার ক্ষমতা রাখে। প্রথমে দোকানের সামান্য অংশ, তারপর হয়ত পুরো দোকানটাই আত্মসাৎ করার মতলব এঁটেছে সে। যা যুগ পড়েছে, ভাগনের চক্করে পড়ে শেষকালে কি ভ্যগাবন্ড হতে হবে? দুর্ভাগা হতে হবে শেষটায়? না, রিচার্ডসাহেবের তেমন শখ করে না।
বৃত্তান্ত শুনে বললাম, 'আপনি যা বললেন, তা অত্যন্ত আফশোসের।  দমিনিককে এখনই দমন করা দরকার। নইলে ভাগনে-ভাগ্যে আপনার বিশপ হওয়া আটকায় কে? মোদ্দা কথা, আপনার ভাগনে যদি সফল না হয় তাহলে আপনার বিশপ হবার আশা নেই। চিরকাল শপকীপার হিসেবেই থাকতে হবে।'
হাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল না। কাজেই, রিচার্ডসাহেবের অনুগামী হতে বাধা ছিল না আমার। দোমিনিক না তার মামা, কে কাকে থামায়, ডুএলে কে জেতে, বিবাদে কে কাকে বাদ দেয়-- বরবাদ করে কে কাকে, বিষয়ের বিষে কে জর্জরিত হয়-- তা স্বচক্ষে দেখার বাসনাও অবহেলার বিষয় নয়। তাই রিচার্ডসাহেবের অনুসঙ্গ হিসেবে রঙ্গ দেখতে আমিও বিতর্কিত সেই দোকানে হাজির হলাম।

বাস্তুবিকই দোমিনিক দোকানের একটা অংশ দখল করে তার পসরা সাজিয়ে বসেছে। ছোটখাট একটা সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে সে। সাইনবোর্ডের উপর লেখা 'সর্বরোগহরা সন্ত টেরিজা যন্ত্র বিপণিকেন্দ্র'। আমার কৌতুহল বেড়ে গেল আরো। বললাম, 'সেন্ট টেরিজা যন্ত্র? এ-সব কী ব্যাপার হে?'
দোমিনিক একগাল হেসে বলল, 'এটা এমন এক যন্ত্র, যা, যে কোনও রোগ সারাতে একদম অব্যর্থ। জোশেপ আংকেল এই যন্ত্র আমাকে সাপ্লাই দিচ্ছেন। বিক্রি করতে পারলে অর্ধেক কমিশন আমার, বাকি অর্ধেক জোশেপ আংকেলের। বিনা পুঁজিতে কী দারুন বিজনেস শুরু করেছি আংকেল, বললে বিশ্বাস করবেন না, এই এক ঘন্টার মধ্যে কুড়িটা যন্ত্র বিক্রি হয়ে গেল। ধর্মান্ধ মানুষেরা যতদিন থাকবে এই ব্যবসার কোনও মার নেই।'
'কেমন দাম যন্ত্রের?'
দমিনিক দাম বলল। দাম শুনে হোচোট খেলাম। দামটা মধ্যবিত্তের আওতার মধ্য হলেও বেশ রাশভারী বলে মনে হয়। তবু সব রোগ থেকে মুক্তির বাসনায় যন্ত্রটাকে তারিয়ে দেখতে সাধ জাগে আমার।
'এই যন্ত্রে সব রোগ সারে?' আমি বলি, 'কই দেখি? দেখাও তো কেমন তোমার যন্ত্র। সত্যি সত্যি যদি রোগ সারে তাহলে আমিও একটা যন্ত্র সংগ্রহ করব।'
আমি আগ্রহ প্রকাশ করে দোমিনিককে আশ্বাস দিই।
দোমিনিক তার ব্যাগ খুলে যন্ত্র বের করে। যন্ত্র দেখে আমি বিস্মিত হয়ে বলি, 'আরে একি জ্বালা! এটা তো সিম্পল একটা মালা! তাও সোনার না, ব্রোঞ্জ কিংবা পিতলের। দাম যা হাঁকিয়েছ সোনার মালারও অত দাম হয় না।'
দমিনিক মোলায়েম হাসি হাসে। 'এ শুধু হার নয় মামাবাবু। সর্বরোগ হরা যন্ত্র। লকেটটা দেখছেন? এই লকেটের জন্যেই এই হারের এত দাম।'
আমি দেখি। অবাক হয়ে দেখি। লকেটের উপর সন্তীয় আলোকবর্তিকা সহ খোদ মাদার টেরিজের আবক্ষ চিত্র খোদাই করা।
আমি বললাম এবার রাগত স্বরে, 'চালাকির জায়গা পাওনি? এই জিনিসে রোগ সারে কখনও?'
'সারে মামাবাবু সারে।' দোমিনিক খানিক সরে এসে গলা নামিয়ে বলে, 'ধর্মে কাবু লোকজন যতদিন থাকবে মাদার টেরিজার ছবি মানুষের রোগ সারাবে, ভাগ্যলক্ষ্মী বা হনুমান যন্ত্র মানুষের ভাগ্য ফেরাবে।'
মাদার টেরিজার সন্তায়ন প্রহসন মনে পড়ল। সন্ত উপাধির দাবিদারের অন্ততঃ দুটো অলৌকিক ক্ষমতা ঘটানোন ঘটনা থাকতে হবে (অবশ্য রটনা হলেও ক্ষতি নেই), আর অবশ্যই সেই দাবিদারকে মৃত হতে হবে (যাতে সেই অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশের দাবির প্রমাণ চেয়ে সন্তকে কেউ বিড়ম্বনায় ফেলতে না পারে)। মাদারের সারা জীবনের কর্মকাণ্ডের সবই লৌকিক, সবেতেই মাতৃ-মমতার প্রকাশ। অলৌকিক শক্তির কোনও ঘটনাই খুঁজে পাওয়া গেল না জীবিত মাদেরের জীবনী থেকে। সত্য যখন সাথ দেয় না, মিথ্যেই তখন একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে। হঠাৎ দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের এক গ্রাম্যবধূ মণিকা বেসরা বলছে মাদারের কাছে প্রর্থণা করে না কি তার পেটের টিউমার সেরে গেছে। এর দশ বছর পর, মারসিলিও হাড্ডাড অ্যানড্রিনো নামক এক ব্রাজিলিয়ান ঘোষণা করল, তার মস্তিস্কের মাল্টিপ্‌ল অ্যাবস রোগ নাকি অ্যাবসেন্ট হয়েছে মাদারের দয়াতেই। ব্যাস! সেন্টহুডের শর্তপূরণ হয়ে গেল। আর কী চাই? যারা যুক্তি মানেন তারা ঠিকই বুঝলেন এটা মাদারের দয়া নয়, নেহাত মাদারীর খেলা! কিন্তু এখানে কে কাকে টুপি পরালো? কলকাতা না কি ভ্যাটিক্যান? নাকি কলকাতা-ভ্যাটিক্যান যৌথভাবে টুপি পরাল বিশ্ববাসীকে? মাদারের নামে এই মিথ্যাচার না করলেই কি চলছিল না? চিরজীবন শুনে আসছি জন্ম-জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সি। মায়ের স্থান স্বর্গেরও উপরে। মা টেরিজা যার স্নেহে গোটা পৃথিবী ধন্য হয়েছে তাকে সন্ত টেরিজা বানানোর জন্য অলৌকিকত্বের যে গল্প প্রচার করা হল তাতে কি তাঁর মাতৃরূপকেই অপমান করা হল না? এই অপকীর্তির কি প্রয়োজন ছিল? মাদারের সেবামূলক কাজের সত্যিটাকে গুরুত্ব না দিয়ে, স্বীকৃতি দেওয়া হল মিথ্যেকে। দুই অবুঝের দয়াতেই যেন মাদার সন্ত হলেন! এটা মানব সভ্যতাকে পিছনের দিকে ঠ্যালার চেষ্টা ছাড়া কি? ভ্যাটিক্যান সিটি তাদের মান্ধাতা আমলের নিয়মকে পরিবর্তন কেন করল না? ধর্মান্ধতা মানুষকে নীচের দিকে টানে। প্রতারকরা মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগ নেয়। ধর্মান্ধরা ধর্মের টানে প্রতারিত হতেই চায়, তাদের ঠেকানো ভারি মুস্কিল। প্রতারিত হলেই যেন তারা বর্তে যায়! এই কথা ভেবে সহসা দমিনিকের উপর আর রাগ করতে পারি না, বরং মনে মনে তার ব্যবসায়িক বুদ্ধির তারিফ করি। কিন্তু ভাগনের গুণমুগ্ধ হবার কোনও লক্ষণই রিচার্ডসাহেবের অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠল না। তিনি তখন গরম তেলের মত ফুটছেন। তিনি বললেন আমাকে, 'দেখিতেছেন মহাশয়? আমার ভাগিনেয় আমার বুকের উপর বসিয়া আমারই দাড়ি উপড়াইতেছে। টেরিজা যন্ত্রে যদি সকলের রোগ সারিয়া যায় তাহা হইলে আমার ওষুধের ব্যবসা তো চৌপাট হইয়া যাইবে। নিপাট ভাল মানুষ সাজিয়া তাহা আমি সহ্য করিব না। আপনি উহাকে পত্রপাঠ আমার শপ হইতে চলিয়া যাইতে বলুন।'
দোমিনিক অনুযোগের স্বরে মরিয়া হয়ে বলল, 'দেখুন তো কাকু, এতবড় একটা দোকানে টুল পেতে আমি আমার কারবার শুরু করেছি, মামার তা সহ্য হচ্ছে না। আমায়  কপালেই এমন একটা কংসমামা জুটল!'
রিচার্ডসাহেব হুঙ্কার ছাড়লেন, 'কংস হইতে আমার আপত্তি নাই, কিন্তু কৃষ্ণ হইয়া তুমি আমাকে বধ করিতে পারিবে না। আমি তোমার নামে জবরদখলের মামলা ঠুকিব।'
'উঁহু, মামলার ঝামেলায় মেলা হ্যাপা।' আমি মন্তব্য করি, 'হ্যাপিনেস হারাবেন আপনি।'
'এখনই তো আমি চরম অসুখে পড়িয়াছি।' উষ্মা ঝরে পড়ে রিচার্ডসাহেবের মুখ থেকে, 'আমার আপন ভাগিনেয় আমার সুখ কাড়িয়া লইয়াছে। উহার কারণেই আমি বিসুখ হইয়াছি। সুখ বিগত হইয়াছে আমার হৃদয় হইতে।'
আমি দোমিনিককে বললাম, 'তুমি বেআইনিভাবে তোমার মামার দোকানের ভাগীদার হয়েছ। তোমার এমন কাজ করা উচিত হয়নি হে। কোনও দোকানঘর ভাড়া নিয়েও তো তুমি তোমার ব্যবসা শুরু করতে পারতে।'
'মামার দোকান থাকতে অন্যের দোকান ভাড়া নিতে যাব কেন? মামার সম্পত্তিতে কি ভাগনের অধিকার নেই? নেই কি? তাছাড়া মামা নিজেই আমাকে ভাগ দিয়েছে। সেই ভাগ ছেড়ে আমি যাবই বা কেন? মামার তাতে অপমান হবে না?'
দোমিনিকের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে রিচার্ডসাহেবের দিকে তাকালাম। বললাম, 'কী মশাই? ও যা বলল তা কি সত্যি?'
রিচার্ডসাহেব জবাব দিলেন, 'সর্বৈব মিথ্যা। আমি উহাকে কোনও ভাগ দিই নাই।'
'সে কি মামা? আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই কি আমাকে ভাগ নিয়ে নিতে বললে না?'
'আমি ভাগ লইতে বলিয়াছি? কই কখন বলিলাম?' আকাশ থেকে পড়লেন রিচার্ডসাহেব। মামা-ভাগনের উত্তপ্ত কথাবার্তা শুনে ক্রমশই বিভ্রান্তির কারণটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়।
গতকাল রাতে মামা-ভাগনের মধ্যে দোকান নিয়ে একপ্রস্থ টানা টনি হয়েছে। ঘুমের সময় বয়ে যায় বলে, মামা এক সময় বিরক্ত হয়ে বলেন, 'আগামী কল্য ভাগ লইয়া সিদ্ধান্ত লইব। এক্ষণে ঘুমাইতে দাও।' সকালে ঘুম থেকে উঠে দোকানের ভাগ না দেবার সিদ্ধান্তই পুনরায় জানাবার জন্যে দোমিনিককে উচ্চস্বরে "ভাগনে" বলে ডাকলেন তিনি। দমিনিকের ঘুম ভেঙেছে অনেক আগেই। পাশের ঘরে শুয়ে শুয়ে মামার সিদ্ধান্ত জানার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সে। অবশেষে সেই প্রতিক্ষার অবসান হল। দৈববাণীর মত ভেসে এল মামার নির্দেশ, "ভাগ নে"। সুতরাং আর কী তর সয়? দোমিমিক ওমনি ভাগ নিয়ে নিয়েছে। মামার সাইকেলে চেপে দোকানে উপস্থিত হয়েছে --দু-কানে শোনা কথার সত্যতা বিষয়ে নিশ্চিত হবার প্রযোজন বোধ করেনি সে।
আমি রিচার্ডসাহেবকে বললাম, 'ভুল আপনারই। আপনি ওকে খামোখা ভাগনে বলে ডাকতে গেলেন কেন?'
রিচার্ডসাহেব চিরতার মত মুখ করে বললেন, 'ভাগিনেয়কে কি ভাগনে বলে ডাকা হয় না?'
'তা হয়। কিন্তু আমি যদি ওর মামা হতাম তাহলে ওকে "ভাগনে" বলে ডাকতাম না।'
'কী বলিয়া ডাকিতেন?'
'ভাগনা। অর্থাৎ ভাগ না।'

PHILIPS BT3241/15 Smart Beard Trimmer - Power adapt technology for precise trimming- 20 settings; 90 min run time with Quick Charge, Grey and Black 


About this item

  • Upto 90 minutes cordless use after 1 hour charging
  • Tackles dense, bushy and long beards for a precise, even trim
  • Easy to use: Corded and Cordless usage
  • 20 lock-in length settings, 0.5 - 10mm with 0.5mm precision with Titanium coated blades
  • Titanium coated blades remain as sharp as on day one
  • Skin friendly rounded tip blades, No heating and Skin Cuts
  • 30% faster cutting with Lift & Trim system
  • Long lasting performance - 2 plus 1 Year warranty after registration 

 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ