নীচের ছবিটা ভাল করে দেখুন। এটা জেএনইউ-এর কিছু জেহাদি-অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত কচিবামের উর্বরমস্তিষ্ক প্রসূত হুদুড় দূর্গার ছবি। শুধু কচি বামই নয়, এই ছবিকে বিকাশরঞ্জনবাবুর মত পাকাবামও স্বীকৃতি দিয়েছেন, যার জন্যে কিছু ফ্যাঁকড়া না তুলে থাকতে পারছি না। এই ছবির ভদ্রলোক স্পষ্টতই একটা সংরক্ষিত বন্যপশুর উপর অত্যাচার করছেন। তাহলে বামপন্থীরা কি বন্যপ্রাণীদের উপর অত্যাচারকে সমর্থন করে? বামপন্থীরা বাঘপ্রকল্পের অজুহাত দেখিয়ে মরিচঝাঁপি থেকে যে রকম নৃশংসভাবে উদ্বাস্তুদের মেরে তাড়িয়েছিল, তার থেকে প্রমাণিত হয় মানুষের জীবন-জীবিকার তুলনায় বণ্যপ্রাণ বামপন্থীদের কাছে ঢের গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে বন্যপ্রাণী-দলনকারী হুদুড়দূর্গা কী করে কমরেডদের এত প্রিয় হয়? হুদুড় দূর্গা দলিত, তাই দলিত মুক্তির প্রতিক হিসেবে বামপন্থীরা হুদুড় দূর্গাকে উপস্থাপন করছে-- এমনটা ভাবাও কষ্টকর, কারণ যারা নিজেদের পলিটব্যুরোতে কোনও দলিতকে জায়গা দেয় না, তারা আদিবাসীদের জঙ্গলের অধিকার মেনে নেবে তা কি হতে পারে? ক্ষমতা হাতে নেই তাই ক্ষমতা পাইয়ে দেবার অভিনয় করতেও বাধা নেই! কারণ ক্ষমতা না থাকলে প্রতিশ্রুতি রক্ষার দায় থাকে না। ক্ষমতায় থাকার সময় যারা লালগড়ে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার করতে দ্বিধা করে না, আমলাশোলে যারা আদিবাসীদের না খাইয়ে মারে-- ক্ষমতা হারিয়ে তারাই আবার আদিবাসীদের রূপকথার নায়ক হুদুড়দূর্গার স্মরণসভা বসায়! এটাই বামপন্থী-প্রতারণা। বামপন্থীরা বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, বিজেপি না কি দেশকে ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নামে টুকতে করতে চায়। কিন্তু ভারতীয়দের আর্য-অনার্য হিসেবে লড়িয়ে দিলে কি ঐক্য বাড়বে? আদিবাসী লোককথার সাথে পুরাণ মিশিয়ে নতুন রূপকথা ফেঁদে সেটাকে ইতিহাস বলে চালানোর প্রবণতাকে কাচিবামেদের শিশুসুলভ চপলতা বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এই ষড়যন্ত্রের পিছে, এমন মস্তিস্কও কাজ করছে, যারা বলে "আজাদি তক জঙ রহেগী, দেশ তেরে টুকড়ে হোংগে!" বিকাশরঞ্জন বাবুর মতন দুঁধে আইনজীবী নেহাত আবেগের বশে কচিবামেদের মহিষাসুর-প্রোপাগান্ডার শরিক হচ্ছেন-- এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। পরিকল্পনার শিকড় অনেক গভীরে। সুতরাং, সাধু সাবধান!

0 মন্তব্যসমূহ