সদ্য বিবাহিত এক ইংরাজ দম্পতি মধুচন্দ্রিমা যাপন করিতে কলিকাতায় আসিয়াছিল। বিপিন বিহারি গাংগুলি স্ট্রিট দিয়া যাইবার সময় জ্যোতিষীগণের বিপুলাকার বিজ্ঞাপন দেখিয়া হস্তরেখা বিচার করিয়া তাহারা স্ব স্ব ভাগ্য গণনা করাইতে মনস্থ করিয়া এক স্বনামধন্য জ্যোতিষীর নিকট উপস্থিত হইল। সাহেবের হস্তরেখা দেখিয়া জ্যোতিষী কহিল, ‘আপনার পাঁচখানি সন্তান জন্মিয়াছে। আরও ন্যূনতম ছয়খানি সন্তান জন্মিবার সম্ভাবনা দেখিতেছি।’
এই কথা শুনিয়া মেমসাহেবের মুখ আষাঢ়ের মেঘের ন্যায় ভারাক্রান্ত হইল, আর সাহেবের পাংশু মুখ লজ্জায় রাঙা হইয়া উঠিল।
জ্যোতিষীর চেম্বারের বাহিরে আসিয়া মেম হোটেলে ফিরিবার বায়না ধরিল। তখন সবে মাত্র বেলা দ্বিপ্রহর। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, চিড়িয়াখানা, কিংবা জাদুঘর দেখিবার পরিকল্পনা লইয়াই তাহারা হোটেল হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়াছিল। তাই সাহেব তাহাকে পীড়াপীড়ি করিতে লাগিল। কিন্তু মেমের সিদ্ধান্তের বদল হইল না। অতঃপর সাহেব তাহাকে লইয়া হোটেলে ফিরিয়া আসিল। ট্যাক্সিতে করিয়া আসিবার সময় সাহেবের সহিত মেম কোন রূপ বাক্যালাপ করিল না। মেমের মেজাজের এই প্রকার পরিবর্তনে সাহেব আশ্চর্য হইয়া গিয়াছিল। সে পত্নীর মান ভাঙাইবার হেতু চেষ্টার ত্রুটি রাখিল না। কিন্তু তাহার সকল প্রয়াসই অরণ্যে রোদন বলিয়া প্রতিভাত হইল। মেম ক্ষণে ক্ষণে রুমালে অশ্রু মুছিতে লাগিল আর ‘কার পাল্লায় পড়িয়াছি’ বলিয়া মৃদু স্বরে বিলাপ করিতে লাগিল।
হোটেলে ফিরিয়া মেম বলিল, ‘তোমার সহিত আমি আর থাকিব না। তুমি প্রতারক। আমি দেশে ফিরিতে চাই। ব্যবস্থা করিয়া দাও।’
সাহেব এই বার বিরক্ত হইল। বলিল, ‘তোমার ক্রোধের হেতু বুঝিতেছি না। আমি তোমার সহিত কি প্রতারণা করিয়াছি?’
মেম কণ্ঠস্বর সপ্তমে তুলিয়া বলিল, ‘বিবাহের পূর্বে বলিয়াছিলে আমি নাকি তোমার জীবনের প্রথম এবং একমাত্র নারী। কিন্তু এখন জানিয়াছি তুমি মিথ্যা বলিয়াছিলে। এখন সত্য করিয়া বলো, কত জন নারীর সহিত তোমার শারীরিক সম্পর্ক হইয়াছে?’
সাহেব বলিল, ‘অভিযোগ মিথ্যা।’
মেমের ক্রোধ আরও বাড়িয়া গেল। উগ্রচণ্ডী রূপ ধারণ করিয়া বলিল, ‘অভিযোগ মিথ্যা? তাহা হইলে তোমার পাঁচ সন্তান কি করিয়া জন্মিল?’
‘তুমি জ্যোতিষীর কথা কেন বিশ্বাস করিতেছ? তাহার গণনা যে ভুল, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। এই জ্যোতিষীটা নিশ্চয় ভণ্ড।’
‘ভারতীয় জ্যোতিষীগণ “ইয়োগী। গণনায় তাহাদের ভুল হয় না বলিয়াই আমার বিশ্বাস।’
‘আমারও বিশ্বাস, তোমাকে যাহা বলিয়াছি তাহার বিন্দু বিসর্গও মিথ্যা নহে। আমাকে বিশ্বাস না করিলে চলো আমি তোমাকে অন্য আরেক জ্যোতিষীর নিকট লইয়া যাইতেছি।’
মেম তাহাতে সম্মত হইল। সাহেব খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখিয়া আরেক জন স্বর্ণ-মেডেল প্রাপ্ত জ্যোতিষীর নিকট ফোন করিয়া সেই দিনই বৈকালে সাক্ষাতের ক্ষণ স্থির করিল।
কিন্তু সাহেবের দুর্ভাগ্য যে, গণনার ফলাফল এইবারও একই প্রকার হইল।
মেম উচ্চৈঃস্বর রোদন সহ গডকে স্মরণ করিয়া বলিল, ‘এই রূপ চরিত্রহীন স্বামী আমার কপালেই কেন জুটিল হে প্রভু? আমি কী এমন অপরাধ করিয়াছিলাম?’
সাহেব উষ্মা প্রকাশ করিয়া বলিল, তাহার বিরুদ্ধে নিশ্চয় জ্যোতিষীগণ ষড়যন্ত্র করিয়াছে। জ্যোতিষীগণের বিরুদ্ধে সাহেব আদালতে মান হানির মামলা করিবারও ইচ্ছা প্রকাশ করিল।
ইতিপূর্বে মনমালিন্য হইলে কর্তা-গিন্নি তাহা জনসমক্ষে আসিতে দেয় নাই, লোক চক্ষুর অন্তরালে আলোচনা কিংবা বচসা কিংবা হাতাহাতি পূর্বক তাহার সমাধান করিয়াছে। কিন্তু এক্ষণে তাহাদের চক্ষুলজ্জার কিঞ্চিত অভাব ঘটিল। তাহারা বচসা করিতে করিতে জ্যোতিষীর চেম্বার হইতে বাহির হইল। তাহাদের বচসা দেখিবার নিমিত্ত রাজপথে জনসমাগম হইল। ভিড় উত্তরোত্তর এইরূপ বাড়িতে লাগিল যে, যান চলাচলে বিগ্ন উপস্থিত হইল। অতঃপর ট্রাফিক পুলিশ আসিয়া সাহেব-মেমকে স্থান ত্যাগে বাধ্য করিল।
হোটেলে ফিরিয়া মেম রাগ করিয়া ওই হোটেলেরই অন্য একটি ঘর ভাড়া লইল। সেই রাত্রে সাহেবের নিদ্রা আসিল না। বিবাহ ভাঙিয়া যাইবার আশঙ্কায় যারপরনাই কাতর হইয়া পড়িয়াছিল সে।
হেনকালে তাহার চলভাষ যন্ত্রটি শব্দ করিয়া উঠিল। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করিয়া সারা দিনে কত টাকা দেনা হইয়াছে, এবং কত তারিখের মধ্যে সেই দেনা পরিশোধ করিতে হইবে সেই সম্বন্ধে ব্যাংক হইতে বার্তা আসিয়াছে।
সাহেবের মাথায় হঠাৎ যেন বিদ্যুৎ খেলিয়া গেল। যাবতীয় সমস্যার মূল কোথায় তাহা অনুধাবন করিতে আর কষ্ট হইল না। আর্কিমিডিস এর মত সে তখন “ইউরেকা ইউরেকা” বলিয়া চিৎকার করিয়া বিছানা ছাড়িয়া, ছুটিয়া আসিয়া মেমের ঘরের দরজায় করাঘাত করিতে লাগিল। মেম দরজা খুলিয়া আরেক প্রস্থ ঝগড়া করিবার প্রস্তুতি নিলো। কিন্তু সে মুখ খুলিবার আগেই সাহেব তাহার ঘরে প্রবেশ করিয়া দরজা বন্ধ করিয়া দিল, তারপর রুদ্ধশ্বাসে বলিতে লাগিল, ‘ডার্লিং, যাহা হইবার তাহা হইয়াছে। মিথ্যাই আমার উপর রাগ করিতেছ। আমার সকল কথা শুনিয়া আমার চরিত্র সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিও। কিছু বৎসর পূর্বে জুয়াতে হারিয়া আমি বড়ই অর্থ কষ্টে পড়িয়াছিলাম। তখন আমি স্পার্ম-ব্যাংকে আমার ঔরস বিক্রয় করিয়াছিলাম। সেই ঔরস হইতে যদি আমার সন্তান উৎপাদিত হইয়া থাকে তাহা হইলে আমার কীইবা করিবার আছে? আমি পরকীয়া অনুরক্ত নই। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আমার ঔরসে অন্য নারীর কিংবা নারীগণের গর্ভে সন্তান আসিয়াছে। তাই আমাকে তুমি প্রতারক বলিতে পারো না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগও করিতে পারো না।’
ইহার উত্তরে মেম কি বলিয়াছিল, সাহেব-মেমের মধ্যে আবার বনিবনা হইয়াছিল কিনা সেই খবর আমার কাছে নাই। আর, সাহেবের চরিত্র কেমন ছিল কিংবা সাহেবকে প্রতারক বলা সমীচীন কিনা, সেই প্রসঙ্গে আমি কোন মন্তব্যও করিব না, পাঠকবৃন্দই সেই বিচার করুন।
LG 190 L 4 Star Inverter Direct-Cool Single Door Refrigerator (GL-B201ASPY, Scarlet Plumeria, Moist 'N' Fresh)
About this item
- Important note : This product is 5-star rated as per 2019 BEE rating and 4-star rated as per 2020 BEE rating
- Direct-cool refrigerator: Economical and Cooling without fluctuation
- Capacity 190 liters: Suitable for families with 2 to 3 members and bachelors
- Energy rating 4 Star: High energy efficiency
- Manufacturer warranty: 1 year on product, 10 years on compressor *T&C
- Smart inverter compressor: Unmatched performance, great savings and super silent operation
- Shelf type: Spill proof toughened glass
-
Inside box: 1 unit Refrigerator & 1 Unit user manual Spl. Features:
Moist ‘n’ Fresh is an innovative lattice-patterned box cover which
maintains the moisture at the optimal level | anti-bacterial gasket |
Fastest Ice Making | Anti rat bite | Vegetable basket with 12.6 liters
capacity | Egg Tray | Ice Tray | 2+3 Door basket (full size/half size) |
Lock | Works without stabilizer: 90v ~ 310v | Solar Smart* | Chiller
zone Country of Origin: India



0 মন্তব্যসমূহ