তাজমহল গড়েন ভালোবেসে শাজাহান,
শিল্পীর ভাস্কর্য যেথায় ইতিহাসে মহান।
তবুও শিল্পীর জীবন দিতে হ’য়েছে বলি,
তাঁর রুধিরে খেললো ভারতের মাটি হোলি।
অদ্বিতীয় সৃষ্টি রইবে জগতে একটাই,
ভালোবাসার পরিচয় হল নির্মমতাই।
আজ বিচার-আশায় প্রতিটি পাথর তাই,
প্রজার ধন লুটে যে-স্মৃতি তা মহত্ত্বে নাই।
ইতিহাসে শিল্পীর মান ইমারত সমান,
বিশ্বের ঘৃণ্য লালসার প্রতীক শাজাহান।
পুঞ্জীভূত আক্রোশ কাঁদে প্রেমশূণ্য সৌধে,
প্রেম নয়, করুণার স্মৃতি এতো লোকমধ্যে।
সম্রাটের কাজ ঠিক কি হস্ত কেটে লওয়া?
প্রপ্য যেথা তব সসম্মানে ভূষিত হওয়া!
সকলের সাথে ভাগ করে নিয়ে স্বীয় আধি,
ক্ষোভে-দুঃখে আত্মত্যাজি জীবন দিলে সমাধি।
শাজাহানের নিষ্ঠুর কর্ম ব্যাপ্ত নিরবধি,
সে-পাপ কর্যের শাস্তি পান মরণ-অবধি।
পুত্র তাঁর কেড়ে ল’য়েছেন পিতৃ-সিংহাসন,
আট বছর বন্দিতেই অবসান জীবন।
হে শিল্পী! বিশ বর্ষে যে-ভাস্কর্য করো সমাধা,
সেই যশ-প্রতিষ্ঠা জীবনে সৃষ্টি হ’লো বাধা।
ভেবেছিলে জায়গানে ভ’রবে দেশ-বিদেশ,
ভাগ্যের পরিহাসে পেলে হাত-কাটা আদেশ।
শুনি যমুনার জলে দিলে প্রাণ-বিসর্জন,
দুঃখ পেলো বাঙলা-মা আর আত্মীয়-স্বজন।
বাঙলার ছেলে তুমি, ফিরলে না বাঙলায় ,
বাঙলা মা-র আঁচল ভিজলো নেত্র-ধারায়।
বেঁছে থাকবে শিল্পী তুমি, সর্বলোকের মনে,
তব শিল্প সার্থক হ’লো, সবাকার দর্শনে।
কিম্বদন্তী শিল্পী তুমি, তোমাকেই নমস্কার,
জীবন ত্যাগেই রেখে গেছ শিল্পের স্বাক্ষর।
তব সৃষ্টি বাদশাহী ঐতিহ্যের অবদান,
সপ্তম আশ্চর্যের একটি বিশ্বের সম্মান।

0 মন্তব্যসমূহ